গর্ভকালীন সমস্ত মেডিকেল টেস্ট ও স্ক্রিনিং গাইড: কোন মাসে কোন পরীক্ষা করাবেন?
গর্ভাবস্থায় কোন মাসে কী পরীক্ষা করাতে হয়? রক্তের সিবিসি, থাইরয়েড, ওজিটিটি (ডায়াবেটিস পরীক্ষা), আল্ট্রাসনোগ্রাম ও প্রস্রাব পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ চেকলিস্ট।
অনেকেই অতিরিক্ত টেস্ট দেখে ঘাবড়ে যান বা অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। তবে প্রতিটি টেস্টের পেছনে সুস্পষ্ট চিকিৎসাগত কারণ রয়েছে।
পুরো ৯ মাসের গর্ভকালীন টেস্টগুলোর ত্রৈমাসিকভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ৩টি ট্রাইমেস্টারের প্রধান টেস্ট ও স্ক্যানের বিবরণ
ক. প্রথম ট্রাইমেস্টারের প্রাথমিক টেস্টসমূহ (Weeks 1 - 13):
- CBC (Complete Blood Count): রক্তে হিমোগ্লোবিন বা রক্তস্বল্পতা (Anemia) আছে কি না তা নির্ণয়।
- Blood Group & Rh Typing: রক্তের গ্রুপ এবং মা আরএইচ নেগেটিভ কি না তা জানা (নেগেটিভ হলে অ্যান্টি-ডি ইনজেকশন লাগতে পারে)।
- TSH (থাইরয়েড হরমোন): গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে থাইরয়েড সঠিক থাকা জরুরি।
- HBsAg, VDRL ও HIV: মায়ের কোনো রক্তবাহিত সুপ্ত সংক্রমণ আছে কি না তা নিশ্চিত করা।
- Urine Routine (R/M/E): লক্ষণহীন প্রস্রাবের ইনফেকশন (UTI) শনাক্তে।
- ডেটিং আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান (৬-৮ সপ্তাহ): গর্ভে শিশুর হূৎস্পন্দন ও সঠিক বয়স নির্ধারণ।
খ. দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারের গুরুত্বপূর্ণ টেস্টসমূহ (Weeks 14 - 27):
- এনোমালি স্ক্যান (১৮-২২ সপ্তাহ): শিশুর মাথা থেকে পা পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গ নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আল্ট্রাসাউন্ড।
- OGTT (Oral Glucose Tolerance Test - ২৪-২৮ সপ্তাহ): গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes) আছে কি না তা জানার গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষা। গ্লুকোজের পানি খেয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
গ. তৃতীয় ট্রাইমেস্টারের ফাইনাল টেস্টসমূহ (Weeks 28 - 40+):
- গ্রোথ ও কালার ডপলার স্ক্যান (৩২-৩৬ সপ্তাহ): শিশুর ওজন বৃদ্ধি, পানির পরিমাণ এবং প্লাসেন্টা দিয়ে সঠিক রক্ত সঞ্চালন হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা।
- রিপিট হিমোগ্লোবিন ও প্রস্রাব পরীক্ষা: প্রসবের আগে রক্তের মাত্রা ও প্রোটিন (Pre-eclampsia) পরীক্ষা।
২. গর্ভকালীন টেস্ট ও স্ক্যানের পূর্ণাঙ্গ চেকলিস্ট
| গর্ভকাল (Timeline) | প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা | পরীক্ষার উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| ১ম ট্রাইমেস্টার (৬-১০ সপ্তাহ) | CBC, Blood Group, TSH, HBsAg, Urine | সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও বেসলাইন তথ্য |
| ১ম ট্রাইমেস্টার (১১-১৩ সপ্তাহ) | NT Scan & Double Marker (ঐচ্ছিক) | ডাউন সিন্ড্রোম স্ক্রিনিং |
| ২য় ট্রাইমেস্টার (১৮-২২ সপ্তাহ) | Anomaly Ultrasound Scan | শারীরিক জন্মগত ত্রুটি নির্ণয় |
| ২য় ট্রাইমেস্টার (২৪-২৮ সপ্তাহ) | OGTT (Glucose Challenge Test) | গর্ভকালীন ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ |
| ৩য় ট্রাইমেস্টার (৩২-৩৬ সপ্তাহ) | Growth Ultrasound & Doppler | বাচ্চার ওজন ও গর্ভফুলের রক্তপ্রবাহ |
“🩺 চিকিৎসকের পরামর্শ (Medical Disclaimer): টেস্ট রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর কখনোই নিজে নিজে ইন্টারনেট দেখে আতংকিত হবেন না; রিপোর্ট সবসময় আপনার গাইনি ডাক্তারকে দেখান এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা বা ওষুধ গ্রহণ করুন।

Dr. Tasnim Ara
OB-GYN & Women's Health Specialist
Dedicated to creating evidence-based, compassionate health resources for women through every stage of life.
চিকিৎসাগতভাবে পরীক্ষিত। এই গল্পটি ফিমিভিয়ার চিকিৎসা বোর্ড দ্বারা বর্তমান চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী পরীক্ষিত। এটি শিক্ষামূলক — স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সর্বদা আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।



আলোচনার জায়গা০
একটি মমতাময়, নিয়ন্ত্রিত স্থান। এই গল্পটি আপনাকে কীভাবে স্পর্শ করেছে, তা শেয়ার করুন।
আলোচনায় যোগ দিতে প্রবেশ করুন